সেল্ফ রুকইয়াহ কী? কেন সেল্ফ রুকইয়াহ করা জরুরি?
- সেল্ফ রুকইয়াহ কী? কেন সেল্ফ রুকইয়াহ করা জরুরি?
সেল্ফ রুকইয়াহ মানে হচ্ছে, কুরআনের আয়াত, দু’আ, রুকইয়াহর বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট ও সঠিক পদ্ধতিতে নিজেই নিজের রুকইয়াহ করা।
বর্তমানে সমাজের অধিকাংশ মানুষ বদনজর যাদুর প্রভাবে আক্রান্ত। মহামারীর ন্যায় ছড়িয়ে পড়া অসুস্থতা, বদনজর, বাধা -এই জাতীয় সমস্যার সমাধানে প্রত্যেক ব্যক্তির সেল্ফ রুকইয়াহ করা জরুরী। সমস্যায় আক্রান্ত হলে নিজের সমস্যার জন্য নিজে সেল্ফ রুকইয়াহ করার ব্যাপারে হাদিসে নির্দেশনা এসেছে-
ضع يدَك على الذي تألَّم من جسدِك ، و قُلْ : بسم اللهِ ( ثلاثًا ) و قل ( سبعَ مراتٍ ) أعوذُ باللهِ و قُدرتِه من شرِّ ما أَجِدُ و أُحاذِرُ
خلاصة حكم المحدث : صحيح
রাসুল (সাঃ) বলেন, শরীরে কোথাও ব্যথা পেলে ব্যথার স্থানে হাত রেখে তিনবার “বিসমিল্লাহ” বলে এরপর বলো,
“আ’উজু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজির” (আমি আল্লাহর ইজ্জত ও কুদরতের মাধ্যমে যা অনুভব করছি ও ভয় পাচ্ছি -তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।)
সেল্ফ রুকইয়াহ করার জন্য যেমন কুরআন, দু’আ ইত্যাদির প্রয়োজন হয় তেমনি সেল্ফ রুকইয়াহ অধিক কার্যকরী হওয়ার জন্য এমনসব ভেষজ মিশ্রণ, খাবার, সাপ্লিমেন্ট (যেমন পানি, তেল, যব, আযওয়া ইত্যাদি) প্রয়োজন হয় যেগুলো অসুস্থতা, সমস্যা, যাদু কিংবা বদনজরের প্রভাবকে দ্রুত ধ্বংস করতে সক্ষম।
সাধারনত কার্যকরী রুকইয়াহ করতে কিছু সাপ্লিমেন্ট বেশি প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন—
রুকইয়াহর পানির সাথে যাদু বদনজরের প্রভাব নষ্টকারী ভেষজসমূহ ব্যবহার করা।
যেমন বরইপাতা, ক্বরশ রুম্মান, হাব্বাতুস সাওদাসহ অসংখ্য ভেষজের সমন্বয়ে রুকইয়াহ করা যা ইতিমধ্যে Ruqyah Detox Powder এ সঠিক অনুপারে বিদ্যমান রয়েছে। এর দ্বারা বাহ্যিক ব্যবহার, রুকইয়াহ চা, রুকইয়াহ গোসল, রুকইয়াহ ড্রিংক পান করে যেকোনো সমস্যার জন্য নিজের সেল্ফ রুকইয়াহ নিজে করা সম্ভব।
যাদু বদনজরের প্রভাব ধ্বংসকারী খাবার পানীয় যেমন ভিনেগার ব্যবহার করা। এর সমন্বয়ে রুকইয়াহ করা হলে দীর্ঘদিনের যাদু বদনজরের সমস্যা, পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক কোষ্ঠকাঠিন্য, আইবিএস ইত্যাদি দ্রুত সমাধান হয়।
যাদুর প্রভাব নষ্টকারী বিশেষ ভেষজ মিশ্রণ যেমন- “খলতাতুর রুমি” ব্যবহার করা। এই বিশেষ মিশ্রণগুলো যাদু নষ্টের চিকিৎসা হিসেবে বরেণ্য রাকী উলামাদের দ্বারা বহুল ব্যবহৃত ও স্বীকৃত।
★ রুকইয়াহ তেল বা ভালো মানের অলিভ অয়েল (Extra Virgin Olive Oil) ব্যবহার করা। যা খাওয়া ও বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে।
★ নিজের দৈনন্দিন খাবারে এমনসব খাবার যুক্ত করা যা শারীরিক অসুস্থতা ও যাদু বদনজরের প্রভাবকে গোড়া থেকে নষ্ট করবে। এই খাবারগুলো কিছু কুরআন সুন্নাহতে উল্লেখ আছে যেমন যব (Oats), আযওয়া আর কিছু তার খাদ্যগুনের কারণে শরীরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে, যাদু বদনজরের প্রভাবকে গোড়া থেকে ধ্বংস করে।
- রুকইয়াহ কি কি সমস্যার সমাধান করে?
যেকোনো সমস্যা ও অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য ওয়াহী নির্ভর চিকিৎসা হিসেবে রুকইয়াহ করা যায়।
তবে এমনসব সমস্যা ও অসুস্থতার সমাধান হিসেবে রুকইয়াহ বেশি কার্যকরী হয় যেগুলো মূলত বদনজর বা যাদুর প্রভাবে তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বদনজর ও যাদুর প্রভাবে যেকোনো ধরনের অসুস্থতা ও সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন শারীরিক মানসিক রোগ ও অসুস্থতা, সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, দাম্পত্য অশান্তি ও অক্ষমতা, বিচ্ছেদ, বিয়ে না হওয়া, ইনকামে বাধা, যাদু বদনজরের সম্পত্তি হারানো ইত্যাদি।
রাসুল (সা:) প্যারানরমাল সমস্যা যেমন বদনজর, যাদু ইত্যাদির জন্য রুকইয়াহ করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন হাদিসে এসেছে-
اسْتَرْقُوا لَها؛ فإنَّ بها النَّظْرَةَ.
তাকে রুকইয়াহ করাও, কারণ তার বদনজর লেগেছে [সহীহ, বুখারী]
তেমনিভাবে, সাধারণ অসুস্থতা ও সমস্যার জন্যও রাসুল (সা:) এর রুকইয়াহ করার কথা এসেছে। যেমন হাদিসে এসেছে—
يا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ؟ فقالَ: نَعَمْ، قالَ: باسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِن كُلِّ شَيءٍ يُؤْذِيكَ، مِن شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ، أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ، باسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ.
জীবরিল আলাইহিস সালাম রাসুল (সা:) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, হে মুহাম্মাদ আপনি কষ্টের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করেছেন? রাসুল সা: বললেন হ্যা। জীবরিল আলাইহিস সালাম বললেন, “আল্লাহর নামে আমি আপনার রুকইয়াহ করছি, প্রত্যেক কষ্ট যন্ত্রনা থেকে, প্রত্যেক নফসের ক্ষতি থেকে, বদনজর হাসাদ থেকে —আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুক। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি। (মুসলিম)
- রুকইয়াহতে চেহারার কি কি সমস্যার সমাধান হয়?
এমন সমস্যা যেটা একজন মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগাচ্ছে, মেডিসিনেও কাজ হচ্ছে না —রুকইয়াহর দ্বারা চেহারা ও স্কিনের এমন অধিকাংশ অসুস্থতা ও সমস্যার সমাধান হয়। কারণ মানুষ সাধারনত চেহারায় যেধরণের সমস্যায় ভুগেন যেমন—
— ব্রণ বা মেছতা।
— চেহারা কালো মলিন হয়ে যাওয়া।
— চেহারা শুকিয়ে যাওয়া।
— চেহারার উজ্জলতা সৌন্দর্য বা শেপ নষ্ট হয়ে যাওয়া।
— চেহারার এমন সমস্যা বা অসুস্থতা যা ডাক্তারের চিকিৎসায়ও পুরোপুরি সমাধান হচ্ছে না।
এধরণের সমস্যাগুলো তখনই হয় যখন কেউ বদনজর বা যাদুতে আক্রান্ত হোন। যেমনটা হাদিসে এসেছে—
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: «استَرْقُوا»،
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
বর্তমানে যাদুর সমস্যায় অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত। আর বদনজর লাগাতো একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে বর্তমানে।
তাছাড়া বদনজর বা যাদুর প্রভাব না হলেও চেহারার যেকোনো সমস্যার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে, সঠিক রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে রুকইয়াহ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
ফলে আপনি চেহারাকেন্দ্রীক যেকোনো সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলে, আপনার চেহারায় মলিনতা দেখা দিলে, চেহারার সৌন্দর্য উজ্জলতা কমতে থাকলে বা ব্রণ মেছতা জাতীয় কোনো সমস্যায় বারবার ভুগলে আপনার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা জরুরি।
সেল্ফ রুকইয়াহর মাধ্যমে চেহারার যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পড়ুন- “চেহারার সহজ সেল্ফ রুকইয়াহ পদ্ধতি।”
- কার্যকরী সেল্ফ রুকইয়াহ করার জন্য কী লাগে?
কোনো সমস্যার সমাধানে কার্যকরভাবে সেল্ফ রুকইয়াহ করে সমাধান করতে চাইলে তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করা জরুরি—
1️⃣ সঠিক রুকইয়াহর আয়াত ও দু’আ পড়ে ফু দেওয়ার মাধ্যমে পানি, সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি প্রস্তুত করা। যেমন সমস্যা অনুযায়ী রুকইয়াহর সঠিক আয়াত ও দু’আ পড়ে প্রস্তুত করা।
2️⃣ রুকইয়াহতে এমন ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যা “শরঈ রুকইয়াহর মূলনীতি” অনুসরণ করবে অথবা প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম চিকিৎসক এবং শরঈ রাক্বীগণ কর্তৃক এর ব্যবহার প্রমাণিত হবে। যেমন বরইপাতার ব্যবহার তাবে’য়ী ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে প্রমানিত এবং কুরআন সুন্নাহতেও এর বিবিধ ব্যবহারের উল্লেখ আছে। এছাড়াও বেদানার খোসা, কালোজিরা, সোনাপাতাসহ অসংখ্য রুকইয়াহর ভেষজের ব্যবহার সারা পৃথিবী জুড়ে রুকইয়াহতে সমাদৃত ও কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
3️⃣ সঠিক পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করা। উদাহরণস্বরূপ পেটের যাদু নষ্টের জন্য নিয়মিত রুকইয়াহর চা পান করা আবার স্কিনের উপরে প্রভাব বিস্তারকারী যাদু বদনজর নষ্টের উদ্দেশ্যে রুকইয়াহ গোসল করা।
- সমস্যা সমাধানের জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ কয়দিন করতে হবে?
যেকোনো সমস্যা পূর্ণ সমাধান হওয়ার আগতক সেল্ফ রুকইয়াহ চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তবে উত্তম হচ্ছে, নির্দিষ্ট দিন টার্গেট করে সেল্ফ রুকইয়াহ করা। এতে সমাধান না হলে কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে আবার সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা।
এক্ষেত্রে ৪০ দিন নিয়মিত সেল্ফ রুকইয়াহ করে এরপর প্রয়োজনে কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে আবার সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা।
সেল্ফ রুকইয়াহ চলাকালীন সময়ে কোনোদিন গ্যাপ পড়লেও কোনো সমস্যা নেই।
যেকোনো সমস্যার জন্য সহজ সেল্ফ রুকইয়াহ সম্পর্কে জানতে পড়ুন।
- চেহারার সমস্যা কিভাবে যাবে?
চেহারার যেকোনো সমস্যার জন্য প্রথম করণীয় হচ্ছে, চেহারার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা। কারণ ব্রণ, অসুস্থতা, মেছতা কালোদাগসহ বর্তমানে চেহারার যত ধরণের সমস্যা দেখা যায় তার অধিকাংশই বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে হতে পারে।
চেহারার সমস্যার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ করার নিয়মঃ
1️⃣ রুকইয়াহ গোসল করা। সাত চামচ RUQYAH DETOX POWDER সাত গ্লাস রুকইয়াহর পানিতে মিশিয়ে আগুনে দশ পনেরো মিনিট জ্বাল দিন। এরপর বালতিতে গোসলের পানির সাথে ডিটক্স পাউডারের মিশ্রনটি মিশিয়ে নিয়ে ভালোভাবে শরীরে ও চেহারায় ঢেলে গোসল করে নিন। প্রয়োজন হলে রুকইয়াহর গোসলের পর স্বাভাবিক পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিন।
2️⃣ RUQYAH TEA পান করুন। দুই কাপ রুকইয়াহর পানির সাথে হাফ চামচ RUQYAH DETOX POWDER মিশিয়ে চায়ের ন্যায় ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে ছেকে RUQYAH TEA প্রস্তুত করে নিন। উপকারিতা ও স্বাদ বাড়ানোর জন্য সাথে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
3️⃣ রুকইয়াহ ফেস প্যাক ব্যবহার করুন। তিন থেকে পাচ চামচ RUQYAH DETOX POWDER পরিমাণমতো রুকইয়াহর পানির সাথে মিশিয়ে পেস্টের মতো বানিয়ে নিন। চেহারায় পুরু করে মেখে নূন্যতম এক ঘন্টা শুয়ে থাকুন। সেই সময়টি কানের পাশে কুরআন তিলাওয়াত ছেড়ে রাখুন। চেহারা ও সৌন্দর্যের উপর বদনজর যাদুর প্রভাব নষ্টের নিয়তে পুরো সময়টি কুরআন শুনুন।
4️⃣ রুকইয়াহ ড্রিংক পান করুন। এক চামচ RUQYAH DETOX POWDER এক গ্লাস রুকইয়াহর পানির সাথে মিশিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ছেকে পান করুন। উপকারিতা বাড়ানোর জন্য সাথে ভিনেগার, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।
এই চারটি পদ্ধতি চেহারা ও সৌন্দর্যের রুকইয়াহর জন্য সবচেয়ে কার্যকরী।
ব্যস্ততার কারণে চারটি পদ্ধতি নিয়মিত করা সম্ভব না হলে অন্ততপক্ষে সপ্তাহে দুইবার রুকইয়াহ ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন ও প্রতিদিন RUQYAH TEA পান করুন।
চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য “রুকইয়াহর পানি” যেভাবে প্রস্তুত করবেন-
পাচ লিটার পানিতে নীচের আয়াতসমূহ পড়ে ফু দিয়ে রুকইয়াহর পানি প্রস্তুত করে নিন। প্রতিটি আয়াত/ সুরা অন্তত সাতবার করে পড়ুন। প্রতিটি আয়াত/সুরা পড়ার পর পানিতে একবার করে ফু দিয়ে নিন। পড়ার পূর্বে মনে মনে দুয়া করুন-
“হে আল্লাহ, ইয়া হাইউ ইয়া কাইয়ুম! আমার চেহারা, ত্বক ও সৌন্দর্যের উপর থাকা বদনজর, যাদু, গিট ও জ্বীন শয়তানের প্রভাব ধ্বংস করে আমাকে পূর্ণ সুস্থ করে দিন।”
আয়াত ও সুরাসমূহ-
✒️সুরা ফাতিহা
✒️সুরা ফালাক্ব
✒️ সুরা নাস
✒️ সুরা ইখলাস
✒️ সুরা কাফিরুন
✒️ আয়াতুল কুরসী
✒️ সুরা হিজরের ১৬ নং আয়াত
وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِى ٱلسَّمَآءِ بُرُوجًۭا وَزَيَّنَّـٰهَا لِلنَّـٰظِرِينَ
ওয়ালাক্বাদ জা’আলনা ফিস সামা-ঈ বুরুজাও ওয়া যাইয়ান না হা লিন নাজিরিন (আর আমি আসমানে নক্ষত্র বানিয়েছি। এগুলোকে দর্শকদের জন্য আকর্ষনীয় সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি)।
✒️ সুরা কাহফের ৩৯ নং আয়াত-
وَلَوْلَآ إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ ٱللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّهِ ۚ
ওয়া লাওলা ইজ দাখালতা জান্নাতাকা কুলতা মাশা আল্লাহ। লা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। (আর যখন তোমরা বাগানে প্রবেশ করলে কেনো বললেনা যে, “মা শা আল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি সামর্থ নেই”)।
✒️ সুরা ইউসুফ ৩১ নং আয়াতাংশ-
ۖ فَلَمَّا رَأَيْنَهُۥٓ أَكْبَرْنَهُۥ وَقَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَقُلْنَ حَـٰشَ لِلَّهِ مَا هَـٰذَا بَشَرًا إِنْ هَـٰذَآ إِلَّا مَلَكٌۭ كَرِيمٌۭ ٣١
যখন তারা দেখলো অবাক বিস্ময়ে বলে উঠলো, ইয়া আল্লাহ ইনিতো কোনো মানুষ নন! ইনিতো দেখতে যেনো সম্মানিত ফিরিশতা!
চেহারার সমস্যা বেশি গুরুতর হলে উপরের সেল্ফ রুকইয়াহর সাথে “পেটের সেল্ফ রুকইয়াহ” করলে সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ যাদু বদনজরের সমস্যা বেশি শক্তিশালী হলে পেটের ভেতর থেকে এর প্রভাব নষ্ট করতে হয়।
- সৌন্দর্য কিভাবে বাড়বে?
চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রথম করণীয় হচ্ছে চেহারা ও সৌন্দর্যকে বদনজর থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা এবং “নিয়মিত চেহারা ও সৌন্দর্যের রুকইয়াহ” করা।
বর্তমানে বদনজর লেগে বা যাদুর প্রভাবে চেহারা ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা ব্যাপক হয়ে গিয়েছে। আর বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে চেহারা ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি হাদিস দ্বারা প্রমানিত। যেমন সহীহ বুখারীতে এসেছে—
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: «استَرْقُوا»،
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চেহারা কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
চেহারা ও সৌন্দর্যের সেল্ফ রুকইয়াহ সম্পর্কে জানতে আরো পড়ুন-
- চেহারার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ আসলেই কাজ করে?
জ্বী চেহারার সমস্যা সমাধানে সেল্ফ অত্যন্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিতে সেল্ফ রুকইয়াহ করা জরুরী।
বর্তমানে চেহারা সংক্রান্ত যত সমস্যা দেখা দেয় তার বড় একটি অংশ মূলত বদনজর যাদুর প্রভাবে দেখা দেয়। এ ব্যাপারে হাদিসেও আলোচনা এসেছে। যেমন সহীহ বুখারীতে এসেছে—
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: «استَرْقُوا»،
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চেহারা কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
চেহারা ও সৌন্দর্যের উপর বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
বদনজর বা যাদুর প্রভাবে একজন ব্যক্তির চেহারা বা শরীরের সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করে।
ত্বকের উজ্জলতা ও ফর্সাভাব কমতে শুরু করে। চেহারা মলিন ও কালো হতে শুরু করে।
চেহারা ও ত্বক দেখতে অসুস্থ লাগে।
ত্বকে ও চেহারায় ব্রণ, কালোদাগ, কালোছোপ বেড়ে যাওয়া, চেহারা শুকিয়ে যাওয়া ও ত্বক ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চেহারা ছোটবেলায় বা একসময় সুন্দর থাকা। বড় হওয়ার পরে ধীরে ধীরে অসুন্দর হয়ে যাওয়া, চেহারা কালো মলিন বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
স্কিন দ্রুত ঝুলে পড়া বা স্কিনে বয়সের ছাপ পড়া শুরু করে।
স্কিন দেখতে ময়লা, মলিন, বাজে ও অসুন্দর লাগে।
চেহারা সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে ফলে ভালো স্কিন কেয়ার বা মধু ব্যবহার করলেও চেহারায় এলার্জি বা রিয়েকশন দেখা দেয়।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে মেডিসিন রেজিস্টেন্স দেখা দিতে পারে। ফলে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও চেহারার সমস্যার সমাধান হয় না বা চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়া, ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া ও সংসারে অশান্তি তৈরী হতে পারে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে বিয়ে পিছিয়ে যায়, বিয়ে আটকে থাকে। অনেকসময় বিয়ে বন্ধের যাদু বা বদনজরের প্রভাব চেহারায় কাজ করে।
এই লিংকে ক্লিক করে Ruqyah Detox Powder ব্যবহার করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারা ও সৌন্দর্যের উপর বদনজর বা যাদু থাকার কমন লক্ষণগুলো কী?
বদনজর বা যাদুর প্রভাবে একজন ব্যক্তির চেহারা বা শরীরের সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করে।
ত্বকের উজ্জলতা ও ফর্সাভাব কমতে শুরু করে। চেহারা মলিন ও কালো হতে শুরু করে।
চেহারা ও ত্বক দেখতে অসুস্থ লাগে।
ত্বকে ও চেহারায় ব্রণ, কালোদাগ, কালোছোপ বেড়ে যাওয়া, চেহারা শুকিয়ে যাওয়া ও ত্বক ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চেহারা ছোটবেলায় বা একসময় সুন্দর থাকা। বড় হওয়ার পরে ধীরে ধীরে অসুন্দর হয়ে যাওয়া, চেহারা কালো মলিন বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
স্কিন দ্রুত ঝুলে পড়া বা স্কিনে বয়সের ছাপ পড়া শুরু করে।
স্কিন দেখতে ময়লা, মলিন, বাজে ও অসুন্দর লাগে।
চেহারা সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে ফলে ভালো স্কিন কেয়ার বা মধু ব্যবহার করলেও চেহারায় এলার্জি বা রিয়েকশন দেখা দেয়।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে মেডিসিন রেজিস্টেন্স দেখা দিতে পারে। ফলে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও চেহারার সমস্যার সমাধান হয় না বা চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়া, ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া ও সংসারে অশান্তি তৈরী হতে পারে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে বিয়ে পিছিয়ে যায়, বিয়ে আটকে থাকে। অনেকসময় বিয়ে বন্ধের যাদু বা বদনজরের প্রভাব চেহারায় কাজ করে।
চেহারা ও সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করলে প্রথমেই সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা জরুরী। এই লিংকে ক্লিক করে Ruqyah Detox Powder ব্যবহার করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- স্কিন কেয়ার ডাক্তার দেখাবো নাকি চেহারার রুকইয়াহ করবো?
আপনি চেহারার কোনো সমস্যা নিয়ে ভুগলে প্রথমে সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করুন। এতে সমস্যার সমাধান না হলে রুকইয়াহ করার পাশাপাশি স্কিন কেয়ার ডক্টরের শরণাপন্ন হোন। কারণ চেহারায় বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে অনেকসময় সমস্যা এতো প্রকট আকার ধারন করে, যার ফলে মেডিসিন ও রুকইয়াহ দুটোই পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন হয়ে থাকে। বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে চেহারায় সমস্যা তৈরী হয়, এ ব্যাপারে সরাসরি হাদিসে উল্লেখ আছে।
সহীহ বুখারীতে এসেছে—
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: «استَرْقُوا»،
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও চেহারা কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- রুকইয়াহতে কেন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা জরুরি?
কোনো সমস্যার সমাধানে কার্যকরভাবে সেল্ফ রুকইয়াহ করে সমাধান করতে চাইলে তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করা জরুরি—
1️⃣ সঠিক রুকইয়াহর আয়াত ও দু’আ পড়ে ফু দেওয়ার মাধ্যমে পানি, সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি প্রস্তুত করা। যেমন সমস্যা অনুযায়ী রুকইয়াহর সঠিক আয়াত ও দু’আ পড়ে প্রস্তুত করা।
2️⃣ রুকইয়াহতে এমন ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যা “শরঈ রুকইয়াহর মূলনীতি” অনুসরণ করবে অথবা প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম চিকিৎসক এবং শরঈ রাক্বীগণ কর্তৃক এর ব্যবহার প্রমানিত হবে। যেমন বরইপাতার ব্যবহার তাবে’য়ী ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে প্রমানিত এবং কুরআন সুন্নাহতেও এর বিবিধ ব্যবহারের উল্লেখ আছে। এছাড়াও বেদানার খোসা, যাইতুন, পবিত্র মাটি, লবন, মিশক, আযওয়া, যাফরান, কালোজিরা, সোনাপাতাসহ অসংখ্য রুকইয়াহর ভেষজের ব্যবহার সারা পৃথিবীতে রুকইয়াহতে সমাদৃত ও কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
3️⃣ সঠিক পদ্ধতিতে রুকইয়াহ করা। উদাহরনস্বরুপ পেটের যাদু নষ্টের জন্য রুকইয়াহর চা পান করা আবার স্কিনের উপরে প্রভাব বিস্তারকারী যাদু বদনজর নষ্টের উদ্দেশ্যে রুকইয়াহ গোসল করা।
✅ রুকইয়াহতে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সেই সকল ভেষজ কার্যকরী যা–
1️⃣ কুরআন সুন্নাহ দ্বারা এর ব্যবহার অথবা বারাকাহ প্রমানিত হতে হবে। যেমন রুকইয়াহতে আযওয়াহ, মধু, সোনাপাতা, কালোজিরা, বরইপাতা, আনার ইত্যাদির ব্যবহার। আযওয়াহ,বরইপাতা, আনার ইত্যাদির বর্ণনা ও উপকারিতা কুরআন হাদিসের বিভিন্ন স্থানে এসেছে।
2️⃣ অথবা কাটাযুক্ত বৃক্ষের কোনো অংশ হবে। তাবে’য়ী ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে যাদু নষ্টের চিকিৎসায় এমন ভেষজ ব্যবহারের নির্দেশনা আছে যার ফল কিংবা গাছ কাটাযুক্ত। যেমন বরইপাতা, গোলাপ, ক্যাকটাস ইত্যাদি। এধরনের গাছ, পাতা ও ফল রুকইয়াহতে অত্যন্ত কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত হয়।
3️⃣ মুসলিম রাক্বীগণ বা চিকিৎসকগণের দ্বারা অভিজ্ঞতার আলোকে এর ব্যবহার ও উপকার প্রমাণিত হবে। যেমন রুকইয়াহতে সরিষা, এলোভেরা, রসুন, দারুচিনি, মেথি ইত্যাদির ব্যবহার।
- চেহারায় বদনজর বা যাদুর প্রভাব কিভাবে কাজ করে?
চেহারায় বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাব সাধারনত তিনভাবে কাজ করতে পারে।
এক. চেহারার সৌন্দর্য, চেহারার ফর্সাভাব, উজ্জলতা, চোখ, হাসি, ত্বক ইত্যাদি সৌন্দর্যের উপর সরাসরি বদনজর পড়া। সেটা মানুষের পক্ষ থেকেও হতে পারে, জ্বীনের পক্ষ থেকেও হতে পারে।
দুই. পেটের ভেতরে বদনজর ও যাদুর প্রভাব শক্তিশালী হয়ে ওঠা। এটি খাওয়ানো যাদু, পেটের যাদুর কারণেও হতে পারে অথবা দীর্ঘদিন জ্বীন যাদু কিংবা বদনজরে আক্রান্ত হলেও হতে পারে। অনেকসময় কবরে পুতে রাখা যাদু, তলসিম জাদওয়ালের যাদু, গিটের যাদু ইত্যাদির প্রভাবে চেহারা একদম নষ্ট হয়ে যায়।
তিন. একজন বদনজর, যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির শরীরে থাকা বদনজর ও যাদুর প্রভাবে সকল সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করা। ঘুমের কমতি, স্ট্রেস ও কাজের চাপ এই বদনজর ও যাদুর প্রভাবকে শক্তিশালী করে তোলে।
এধরনের সমস্যার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে, শরীরের ভেতর-বাহির উভয় জায়গা থেকে বদনজর যাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা।
চেহারা ও সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করলে প্রথমেই সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা জরুরী। এই লিংকে ক্লিক করে “সৌন্দর্য নষ্টকারী বদনজর যাদুর লক্ষণসমূহ এবং এই সমস্যার জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- রুকইয়াহ কিভাবে চেহারার সমস্যার সমাধান করে?
একজন ব্যক্তি চেহারার সমস্যার জন্য চারভাবে সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করেন।
1️⃣ আক্রান্ত ব্যক্তি Ruqyah Detox Powder দিয়ে Ruqyah Tea পান করার দ্বারা তার চেহারার শক্তিশালী বদনজর ও যাদুগুলো ভাঙতে শুরু করে। কারণ চেহারায় মাত্রাতিরিক্ত অসুন্দর বা নষ্ট হয়ে যাওয়া অর্থ হলো হয় তার পেটের ভেতরে যাদু বদনজরের প্রভাব আছে অথবা তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাদু বদনজরে আক্রান্ত।
কেউ দীর্ঘদিন যাদু বদনজরে আক্রান্ত হলে সেই যাদু বদনজরের মূল গোড়া পেটে অবস্থান করে এবং একদম ভেতর থেকে রোগীর সুস্থতা ও চেহারারা হারানো উজ্জলতা সৌন্দর্য ফিরে আসে।
2️⃣ আক্রান্ত ব্যক্তি Ruqyah Detox Powder দ্বারা রুকইয়াহ গোসল করার ফলে তার স্কিনের উপরে প্রভাব বিস্তারকারী বদনজর ও যাদুর প্রভাবগুলো নষ্ট হতে শুরু করে যা তাকে অসুস্থতা থেকে মুক্তি দেয় ও সমস্যাগ্রস্থ মলিন স্কিনকে ফিরে পায় তার হারানো উজ্জ্বলতা।
3️⃣ Ruqyah Detox Powder রুকইয়াহর পানিতে ভিজিয়ে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রতিদিন এক গ্লাস রুকইয়াহ ডিটক্স ড্রিংক পান করার দ্বারা তিনি সেসকল বদনজর ও যাদুর প্রভাব থেকে মুক্তি পান যা একদম শেকড়ের মত তার শরীরে দিনের পর দিন গেড়ে বসেছিলো।
4️⃣ চেহারায় যাদু কিংবা বদনজরের সবচেয়ে বাজে প্রভাব পড়ে সরাসরি চেহারার ত্বকের উপর। যা চেহারাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। Ruqyah Detox Powder দিয়ে রুকইয়াহ ফেস প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করার দ্বারা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চেহারা ও সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করলে প্রথমেই সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করা জরুরী। এই লিংকে ক্লিক করে “সৌন্দর্য নষ্টকারী বদনজর যাদুর লক্ষণসমূহ এবং এই সমস্যার জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারায় একের পর এক ব্রণ কেন উঠতেই থাকে?
সাধারন বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে চেহারায় একের পর এক ব্রণ উঠতেই থাকে। অনেকের আশিক জ্বীনের সমস্যা থাকলেও এর প্রভাবে চেহারায় ব্রণে ভরে যায়।
বদনজরের প্রভাবে চেহারায় ব্রণ ওঠার ব্যাপারে সরাসরি সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে—
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: اسْتَرْقُوا لها، فإنَّ بها النَّظْرَةَ».
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। তার চেহারায় বদনজর লেগেছে [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
চেহারায় একের পর এক ব্রণ উঠতে থাকলে আজই Ruqyah Detox Powder দিয়ে সেল্ফ রুকইয়াহ শুরু করুন।
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারার সমস্যা সমাধানে Ruqyah Detox Powder দিয়ে শুধু রুকইয়াহ গোসল করলে হবে না? নাকি রুকইয়াহ চা-ও পান করতে হবে?
চেহারার সমস্যা সমাধানে Ruqyah Detox Powder দিয়ে রুকইয়াহ গোসল ও রুকইয়াহর চা —দুটোর ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা।
চেহারার সমস্যা যদি এমন যাদু বা বদনজরের কারণে হয় যা শুধুমাত্র ত্বকের উপরিভাগে প্রভাব বিস্তার করেছে। সেক্ষেত্রে শুধু নিয়মিত রুকইয়াহ গোসল করলে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু চেহারার সমস্যার মূল উৎস যদি হয় পেটের যাদু, জ্বীনকেন্দ্রীক অসুস্থতা কিংবা দীর্ঘদিনের বদনজর যাদুর প্রভাব। সেক্ষেত্রে রুকইয়াহ গোসলের পাশাপাশি রুকইয়াহ চা ও পান করা জরুরি। যাতে সমস্যা একদম গোড়া থেকে সমাধান হয়ে যায়। কারণ রুকইয়াহজনিত দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা সমস্যাগুলোর মূল গোড়া সাধারন পেটকে কেন্দ্র করে শরীরে কাজ করে।
ফলে চেহারা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে এমনভাবে সেল্ফ রুকইয়াহ করা উত্তম যা ভেতর বাহির উভয় দিক থেকেই আপনাকে সুস্থ করে তুলবে।
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারার সমস্যা সমাধানে সেল্ফ রুকইয়াহতে তেমন উন্নতি হচ্ছে না। কী করবো?
প্রথমত সঠিক নিয়মে “চেহারার সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানের জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ করা জরুরী।
দীর্ঘদিন সেল্ফ রুকইয়াহ করার পরও এতে সমস্যা না কমলে চেহারার জন্য অতিরিক্ত দুটো সেল্ফ রুকইয়াহ করুন। এই দুই পদ্ধতি সমস্যাকে আরো দ্রুত সমাধানে ভূমিকা রাখবে।
1️⃣ স্টীম পদ্ধতিতে চেহারার রুকইয়াহ করুন।
2️⃣ ইসতিফরাগ (রুকইয়াহর পদ্ধতিতে বমি) করুন।
বিস্তারিত জানতে পড়ুন— “চেহারার স্পেশাল সেল্ফ রুকইয়াহ পদ্ধতি”
- ব্যস্ততার কারণে চেহারার জন্য সেল্ফ রুকইয়াহ করতে পারিনা। কি করবো?
দ্রুত সমাধান ও সুস্থতা পেতে ভালোভাবে সেল্ফ রুকইয়াহ করার চেষ্টা করুন।
ব্যস্ততার কারণে সেল্ফ রুকইয়াহ নিয়মিত করা সম্ভব না হলে—
1️⃣ অন্ততপক্ষে সপ্তাহে দুইবার রুকইয়াহ ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন
2️⃣ প্রতিদিন RUQYAH TEA পান করুন।
ফেসপ্যাক চেহারার উপরিভাগের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে আর Ruqyah Tea ভেতর থেকে চেহারার সমস্যাগুলোর সমাধান করবে।
বিস্তারিত এখানে পড়ুন— “চেহারার সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত সেল্ফ রুকইয়াহ করার নিয়ম”
- চেহারা শুকিয়ে যাওয়া, অসুস্থ চেহারা ও চোখ—সতর্ক হোন!
একজন ব্যক্তি কঠিন বদনজর কিংবা শক্তিশালী যাদুতে আক্রান্ত হলে তার অন্যতম প্রভাব পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির চেহারায়।
ভয়াবহ যাদু কিংবা বদনজরের প্রভাবে—
চেহারা শুকিয়ে যেতে শুরু করে।
চেহারা মলিন ও কালো হয়ে যেতে শুরু করে।
চোখের নীচে কালি পড়া, চোখ গর্তে চলে যাওয়া —এজাতীয় সমস্যা দেখা দেয়।
চেহারা ও ত্বক দেখতে অসুস্থ লাগে। প্রায়ই ব্যক্তির চেহারার দিকে তাকে বিধ্বস্ত ও নার্ভাস লাগে।
চোখ অসুন্দর লাগে দেখতে।
ত্বক রুক্ষ ও মলিন হয়ে ওঠে।
চেহারার উজ্জলতা, ফর্সাভাব ও সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত কমতে থাকে।
এমন অনেক সমস্যা ও অসুস্থতা দেখা যায় যা তার সকল সৌন্দর্য ও নিয়ামত কেড়ে নিতে শুরু করে।
বদনজর বা যাদুর প্রভাবে একজন ব্যক্তির চেহারা, ত্বক, শরীরের গঠন ও শেপের সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করে।
ত্বকে ও চেহারায় ব্রণ, কালোদাগ, কালোছোপ বেড়ে যাওয়া, চেহারা শুকিয়ে যাওয়া ও ত্বক ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চেহারা ছোটবেলায় বা একসময় সুন্দর থাকা। বড় হওয়ার পরে ধীরে ধীরে অসুন্দর হয়ে যাওয়া, চেহারা কালো মলিন বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
স্কিন দ্রুত ঝুলে পড়া বা স্কিনে বয়সের ছাপ পড়া শুরু করে।
স্কিন দেখতে ময়লা, মলিন, বাজে ও অসুন্দর লাগে।
চেহারা সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে, ফলে ভালো স্কিন কেয়ার বা মধু ব্যবহার করলেও চেহারায় এলার্জি বা রিয়েকশন দেখা দেয়।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে মেডিসিন রেজিস্টেন্স দেখা দিতে পারে। ফলে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও চেহারার সমস্যার সমাধান হয় না বা চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়া, ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া ও সংসারে অশান্তি তৈরী হতে পারে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে বিয়ে পিছিয়ে যায়, বিয়ে আটকে থাকে। অনেকসময় বিয়ে বন্ধের যাদু বা বদনজরের প্রভাব চেহারায় কাজ করে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে তাকে নার্ভাস ও দুর্বল দেখায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি গুরুত্ব পান না।
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারায় বদনজর লাগলে আসলেই কি চেহারা নষ্ট হয়ে যায়?
চেহারায় বদনজরের প্রভাব কাজ করা শুরু করলে চেহারার সৌন্দর্য, উজ্জলতা সব শেষ হয়ে যেতে শুরু করে। যেমনটা হাদিসে আছে, বদনজর সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।
إنَّ العينَ لَتُدخِلُ الجملَ القِدرَ والرجلَ القبرَ
রাসুল (সা:) বলেন, বদনজর উটকে এমন অবস্থা করে যে, তার ঠিকানা হয় পাতিলে (অর্থাৎ উট এতোটা অসুস্থ হয়ে যে, মালিক বাধ্য হয়ে তাকে জবাই করে রান্না করে ফেলে) আর মানুষকে এমন অবস্থা করে যে, তার ঠিকানা হয় কবরে (অর্থাৎ বদনজরের প্রভাবে মানুষ মারা যায়)।
চেহারায় বদনজরের প্রভাবে চেহারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা হাদিস দ্বারা প্রমানিত।
أنَّ النَّبيَّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم رَأى في بَيتِها جارِيةً في وَجْهِها سَفعَةٌ، أيْ: سَوادٌ وشُحوبٌ، فَقالَ: اسْتَرْقُوا لها، فإنَّ بها النَّظْرَةَ».
রাসুল (সা:) তার ঘরে আগত এক প্রতিবেশী মেহমানের চেহারায় ব্রণ, ফুসকুড়ি ও কালো মলিনভাব দেখে বললেন— তাকে রুকইয়াহ করাও। তার চেহারায় বদনজর লেগেছে [বুখারী, মুসলিম, সহীহ]
চেহারায় বদনজর কিংবা যাদুর প্রভাবে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
চেহারা শুকিয়ে যেতে শুরু করে।
চেহারা মলিন ও কালো হয়ে যেতে শুরু করে।
চোখের নীচে কালি পড়া, চোখ গর্তে চলে যাওয়া —এজাতীয় সমস্যা দেখা দেয়।
চেহারা ও ত্বক দেখতে অসুস্থ লাগে। প্রায়ই ব্যক্তির চেহারার দিকে তাকে বিধ্বস্ত ও নার্ভাস লাগে।
চোখ অসুন্দর লাগে দেখতে।
ত্বক রুক্ষ ও মলিন হয়ে ওঠে।
চেহারার উজ্জলতা, ফর্সাভাব ও সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত কমতে থাকে।
এমন অনেক সমস্যা ও অসুস্থতা দেখা যায় যা তার সকল সৌন্দর্য ও নিয়ামত কেড়ে নিতে শুরু করে।
বদনজর বা যাদুর প্রভাবে একজন ব্যক্তির চেহারা, ত্বক, শরীরের গঠন ও শেপের সৌন্দর্য নষ্ট হতে শুরু করে।
ত্বকে ও চেহারায় ব্রণ, কালোদাগ, কালোছোপ বেড়ে যাওয়া, চেহারা শুকিয়ে যাওয়া ও ত্বক ঝুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চেহারা ছোটবেলায় বা একসময় সুন্দর থাকা। বড় হওয়ার পরে ধীরে ধীরে অসুন্দর হয়ে যাওয়া, চেহারা কালো মলিন বা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
স্কিন দ্রুত ঝুলে পড়া বা স্কিনে বয়সের ছাপ পড়া শুরু করে।
স্কিন দেখতে ময়লা, মলিন, বাজে ও অসুন্দর লাগে।
চেহারা সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে, ফলে ভালো স্কিন কেয়ার বা মধু ব্যবহার করলেও চেহারায় এলার্জি বা রিয়েকশন দেখা দেয়।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে মেডিসিন রেজিস্টেন্স দেখা দিতে পারে। ফলে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও চেহারার সমস্যার সমাধান হয় না বা চেহারার সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হওয়া, ঘনিষ্ঠতা কমে যাওয়া ও সংসারে অশান্তি তৈরী হতে পারে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে বিয়ে পিছিয়ে যায়, বিয়ে আটকে থাকে। অনেকসময় বিয়ে বন্ধের যাদু বা বদনজরের প্রভাব চেহারায় কাজ করে।
চেহারায় বদনজর যাদুর প্রভাবে তাকে নার্ভাস ও দুর্বল দেখায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি গুরুত্ব পান না।
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- চেহারায় বদনজর লাগলে করণীয় কী?
চেহারায় বদনজর লাগলে প্রথম করণীয় হচ্ছে রুকইয়াহ করা। সমস্যা কম বা মধ্যম পর্যায়ের হলে সেল্ফ রুকইয়াহতে সমাধান হয়ে যাবে।
অনেকসময় যাদু বা বদনজর এতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে, সেল্ফ রুকইয়াহর পাশাপাশি অন্যান্য ট্রিটমেন্টের কম্বিনেশন প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে অন্তত এক মাসের মত সেল্ফ রুকইয়াহ করার পরও সমস্যার উল্লেখযোগ্য সমাধান না হলে সেল্ফ রুকইয়াহর পাশাপাশি সরাসরি রুকইয়াহ করা ও মেডিকেল ট্রিটমেন্ট গ্রহণ করুন।
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।
- রুকইয়াহতে বরইপাতার ভূমিকা (ورقة السدر)—
“আর মুহাম্মাদ (সাঃ) জীবরিলকে আরেকবার দেখেছিলেন, প্রান্তসীমার বরইবৃক্ষের নিকটে। যা জান্নাতুল মা’ওয়ার নিকটে অবস্থিত। [সূরা নাজম: ১৩-১৫]
বরইপাতা হচ্ছে সারা পৃথিবীর রাক্বীগনের নিকট রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় উপাদান যা বদনজর/ যাদুর প্রভাব নষ্টে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। হাদিসে বরইপাতার বিভিন্ন ব্যবহার এসেছে।
আর ইবনে হাজার রাহ. তার ফাতহুল বারী গ্রন্থে প্রখ্যাত তাবে’য়ী আ’লিম ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহর উদ্ধৃতি দিয়ে যাদুর প্রভাব নষ্টে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন।
হাদিসে ভিন্ন প্রসঙ্গে বরইপাতার গোসলের বর্ণনা এসেছে। যা রুকইয়াহতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম সিদর ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- গোলাপ কেনো রুকইয়াহতে গুরুত্বপূর্ণ?
ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ ফাতহুল বারীতে গোলাপসহ অন্যান্য কাটাওয়ালা গাছের ফুল ব্যবহার করে যাদুর প্রভাব নষ্টের আলোচনা করেছেন।
গোলাপ একটি কাঁটাওয়ালা ফুল ও রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে অন্যতম কার্যকরী ভেষজ যা বদনজর, যাদুর প্রভাব ও সৌন্দর্যকেন্দ্রীক সমস্যাগুলোর সমাধান করে।
গোলাপের উল্লেখ কুরআনে হওয়ায় ও কাটাওয়ালা ফুল হওয়ায় এটি রুকইয়াহতে অত্যন্ত কার্যকরীভাবে যাদু বদনজরের প্রভাব ধ্বংসে সহায়ক হয়। বিশেষত সৌন্দর্যের উপর থাকা বদনজর যাদুর প্রভাব নষ্টের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
আর সেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে ও তা রক্তিম গোলাপের ন্যায় রক্তবর্ণ ধারণ করবে [সূরা রহমান: 37]
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম গোলাপ ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- সোনাপাতা বা সানা মাক্কী —যাদু বদনজরের চিকিৎসায় ভুমিকা ও গুরুত্ব।
এই ভেষজটিকে রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহ চিকিৎসার মূল উপাদানগুলোর অন্যতম একটি বলে গণ্য করা হয়। এটি পেট পরিস্কারক ও ডিটক্স হিসেবে ভুমিকা রাখে। হাদিসেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে একে অন্য রকম মর্যাদা দেওয়া হয়েছে–
তিরমিযীতে আসমা রাঃ হতে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেন, যদি কোনো কিছু মৃত্যুর রোগকেও ঠেকাতে পারতো সেটা হতো “সানা”।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম সানা মাক্কি ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে “লবঙ্গ” ও ইনফ্লামেশন রোধে এর ভূমিকা।
লবঙ্গকে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়। যা রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে বহুল প্রচলিত।
বদনজর / যাদুর প্রভাবে শরীরে প্রচুর inflammation তৈরী হয়। ফলে শরীর জ্বালাপোড়া, অসুস্থতা, দুর্বলতা, মানসিক অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, চেহারা নষ্ট হয়ে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া সহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। এসকল সমস্যার সমাধানে লবঙ্গ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম লবঙ্গ ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- কালোজিরা —রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহর প্রান।
কালোজিরার ব্যাপারে নতুন করে কিছু লিখার প্রয়োজন নেই। রাসূল (সাঃ) এর প্রসিদ্ধ হাদিসটি কমবেশী সবারই জানা–
কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত প্রত্যেক অসুস্থতার চিকিৎসা। [বুখারী]
কালোজিরা তার চিকিৎসা গুন ও বারাকাহর কারণে রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম কালোজিরা ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- রুকইয়াহতে হুলবাহ বা মেথি। চিকিৎসা জগতের স্বর্ন।
প্রাচীনকালে মুসলিম চিকিৎসকগণ মেথিকে তূলনা দিতেন স্বর্নের সাথে। তারা বলতেন, মানুষ যদি এর উপকার জানতো তাহলে স্বর্ণের বিনিময়ে একে কিনে নিতো।
কাসিম ইবনে আব্দুর রহমা থেকে বর্ণিত। রাসুল সা: বলেন, তোমরা মেথির দ্বারা চিকিৎসা করো। [যাদুল মা’আদ, রাসুল সা: এর চিকিৎসা সংক্রান্ত অধ্যায়]
মক্কায় সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস অসুস্থ হলে রাসুল (সা:) বলেন, হারিস বিন কালাদাহ কে ডাকো। তাকে উদ্দেশ্য করে রাসুল সা: বললেন, সা’দকে মেথির সাথে আজওয়া রান্না করে খাওয়াও। (যাদুল মা’আদ, রাসূল সা: এর চিকিৎসা অধ্যায়)
সুগন্ধি মেথির নববী গুনাগুনের কারণে এটি রুকইয়াহ শার’ইয়্যাহতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত কফ, গ্যাস্ট্রিক, পেটকেন্দ্রীক সমস্যা, মানসিক অস্থিরতা, পিরিয়ড সমস্যা ও যাদু বদনজরের তীব্র শক্তি ধ্বংসে এটি অত্যন্ত উপকারী।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম মেথি ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- আনারবৃক্ষ। বদনজর যাদুর প্রভাব ধ্বংসে সক্রিয় ভেষজ।
*আনার বৃক্ষ, খোসা ও নির্যাস (قرش رمان)*
বরইপাতার পরেই রুকইয়াহতে কার্যকরী আরেকটি উপাদান হচ্ছে আনার গাছের বিভিন্ন অংশ। এর ডাল, ফল, খোসা, রস —রুকইয়াহতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। বেদানার খোসা ও নির্যাস সারা পৃথিবীতেই রাক্বীগন অধিক ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষত জ্বীনকেন্দ্রীক অসুস্থতার চিকিৎসায়। এটি একটি জান্নাতি ফল। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
আর সেথায় জান্নাতে থাকবে বিভিন্ন ফল ফলাদি, খেঁজুর ও আনার। [সূরা রহমান ৬৮]
এটি একটি কাটাওয়ালা বৃক্ষের ফল। এর খোসা ও নির্যাস সৌন্দর্যের উপর থাকা বদনজর যাদুর প্রভাব ধ্বংসে, আশিক জ্বীনের প্রভাব ধ্বংসে ও শরীরে আক্রমনকারী জ্বীনের সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে কার্যকরী।
Ruqyah Lab এর বিশেষজ্ঞ টীম আনারবৃক্ষের বিভিন্ন অংশ, নির্যাস ও রুকইয়াহর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর সমন্বয়ে রুকইয়াহ ডিটক্স পাউডার প্রস্তুত করেছেন, যাতে রুকইয়াহ আরো অধিক কার্যকরী হয়ে উঠে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন— “রুকইয়াহ শারি”য়াহতে Ruqyah Detox Powder এর ব্যবহারবিধি”
- অমুসলিমরাও কি রুকইয়াহ করতে পারবে বা রুকইয়াহর প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারবে?
জ্বী পারবে। কারণ রুকইয়াহ হচ্ছে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। আর চিকিৎসা পদ্ধতি সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে বিধর্মীগণ কুরআনের কপিকে স্পর্শ করতে পারবেন না। তারা কুরআনের আয়াত মুখে পড়ে পানিতে বা তেলে ফু দিতে পারবেন। এবং এর সাথে রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন, নিজের চিকিৎসা নিজেরাই করতে পারবেন।
অমুসলিমগণ নিজেরা কুরআন পড়তে না পারলে তারা পানিতে বা তেলে এমন কাউকে দিয়ে কুরআন পড়িয়ে ফু দেওয়াবেন যিনি কুরআন পড়তে পারেন।
কুরআন মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্য চিকিৎসা ও সুস্থতা হিসেবে কাজ করে যেমনটা কুরআনে এসেছে—
আমি (আল্লাহ) এই কুরআনকে নাযিল করেছি যা চিকিৎসাস্বরুপ [সুরা আল ইসরা ৮২]
যেকোনো সমস্যার জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করতে এই লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ুন—
“যেকোনো সমস্যার জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহর সাধারন পদ্ধতি।”
- চেহারার সমস্যা বদনজরের কারণে না হয়ে সাধারন মেডিকেল সমস্যা হলে কি রুকইয়াহ করা যাবে?
চেহারার যেকোনো সমস্যার জন্য রুকইয়াহ করা যাবে। কারণ রাসুল (সা:) থেকে যেকোনো অসুস্থতা বা সমস্যার জন্য রুকইয়াহ করার নির্দেশনা এসেছে।
সমস্যা আত্মিক হোক, শারীরিক হোক বা মেডিকেল সম্বন্ধীয় হোক —যেকোনো সমস্যার সমাধানে রুকইয়াহ ও কুরআন অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা। যেমনটা আল্লাহ বলেছেনঃ
আমি চিকিৎসাস্বরুপ এই কুরআন নাযিল করেছি [সুরা ইসরা 82]
এই লিংকে ক্লিক করে “চেহারা ও সৌন্দর্যের জন্য নিজে নিজে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি” জেনে নিন।